আদমশুমারী ২০২২

২০২২ সালের আদমশুমারী এর ফলাফল

Hot topics Update জানা অজানা

আসসালামু আলাইকুম,

আপনারা  সবাই জানেন,

দেশের ষষ্ঠ ডিজিটাল জনসুমারী ও বৃহৎ গণনা ২০২২ প্রকাশ করা হয়েছে।এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ২০২২ প্রকাশ করা আদমশুমারীর ফলাফল ও ২০২২ সালের আদমশুমারী সম্পর্কে কিছু তথ্য।চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

২০২২ সালের আদমশুমারী সম্পর্কে কিছু তথ্য:

এই ২০২২ সালের আদমশুমারী হচ্ছে দেশের ইতিহাসে প্রথম ডিজিটাল আদমশুমারী এবং দেশের ষষ্ঠ জাতীয় আদমশুমারী।এই আদমশুমারির কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে।এটি একসপ্তাহ চলমান ছিল।চলতি বছর ১৫ জুন থেকে ২১ জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত।কিন্তু দেশের কিছু স্থানে (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার) বন্যা কবলিত হওয়ায় ২৮ জুন ২০২২ পর্যন্ত চলমান থাকে।বাংলাদেশ এর আদমশুমারীর ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ধারাবাহিকতাটি হচ্ছে ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ও ২০১১।সেই হিসেবে দেশের আদমশুমারীটি হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে।

২০২১ সালের আদমশুমারী ২০২২ সালে হওয়ার কারণ?

২০২১ সালে আদমশুমারী করা হবে এবং সেই মোতাবেক ২০১৮ সালে মাস্টার প্ল্যান করে পরের বছর অক্টোবরে আদমশুমারীর জন্য ব্যায় ধরা হয় ১,৭৬১ কোটি টাকা।কিন্তু এরপর বিশ্ব ব্যাপি কোরোনার বয়াল থাপা শুরু হয় যা বাংলাদেশেও চলে এই কোরোনার তান্ডব।এই বয়াল থাপার জন্য আদমশুমারীর কার্যক্রম ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পেছানো হয়।কিন্তু ২০২১ সালের জুন মাসে মাস্টার প্ল্যানে পরিবর্তন আনা হয় এবং দেখানো হয় এই জনশুমারী কার্যক্রমটি ডিজিটাল করলে ব্যায় কমে আসবে ১১% পর্যন্ত যা দাড়াবে ১,৫৭৫ কোটি টাকায় এবং এই ডিজিটালাইন করতে গেলে প্রয়োজন ট্যাব যা ২০২১ সালের অক্টোবর এর মধ্যে করা সম্বভ হয়নি।২০২২ সালের মার্চ মাসে সরকার এই ট্যাব কেনার অনুমোদন দিলে পরের মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আদমশুমারীর নতুন তারিখ ঘোষণা করে।

এই আদমশুমারীর কাজে ৩,৭০,০০০ জন লোক নিয়োগ করা হয়।এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয় ২৭ জুলাই ২০২২ তারিখে।

২০২২ সালের আদমশুমারী ফলাফল – দেশের ষষ্ঠ আদমশুমারীর ফলাফল

দেশের মোট জনসংখ্যার ফলাফল

২০২২ সালের নতুন জনগণনা অনুযাযী বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন মোট ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন অপরদিকে নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ এর জনগোষ্ঠী আছে ১২ হাজার ৬২৯ জন।দেশের মোট প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা ২৩লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন।প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া আছে।

সর্বশেষ জন গণনাই দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮২ জন বেশি।সেই বিসেবে প্রতি ৯৮ জন পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ১০০ জন।

দেশের ৮ বিভাগের সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে মেগা সিটি বা ঢাকা বিভাগে।ঢাকা বিভাগের মোট জনসংখ্যা ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ১০৭ জন।ঢাকা বিভাগের মোট পুরুষ ২,২৪,৫৯,৮২২ জন, মোট মহিলা ২,১৭,২১,৫৫৬ জন মোট হিজড়া ৪,৫৭৭ জন।

দেশের ৮ বিভাগের সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।বরিশাল বিভাগে বাস করে মাত্র ৯১,০০,১০২ লাখ মানুষ।বরিশাল বিভাগের মোট পুরুষ ৪,৪৩৬,৭৫০ জন, মোট মহিলা ৪,৬৫৮,৪২১ জন মোট হিজড়া ৫৬৩ জন।

ঢাকা বিভাগে পরিবার প্রতি গড় সদস্য ৩.০৮ জন আবার সিলেট বিভাগে পরিবার প্রতি গড় সদস্য ৫ জন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ঢাকায় অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে।ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৭৪ শতাংশ অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে বৃদ্ধির হার ০.৭৯ শতাংশ।

সিটি কর্পোরেশন গুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর মোট জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাস করে ৩৯ হাজার ৩৫৩ জন।

সিটি কর্পোরেশন গুলোর মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর মোট জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম।রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাস করে ৩ হাজার ৪৪৪ জন।

সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বসবাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এখানে মোট জনসংখ্যা ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ জন।

অপরদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫১ জন।

দেশের মোট বাসগৃহের সংখ্যা

সেই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশের সর্বেমোট বাসগৃহের সংখ্যা ৩৫,৯৯০,৯৫১ টি পল্লী এলাকায় ২৭,৮১১,৬৬৭ টি অপরদিকে শহর এলাকায় ৮,১৭৯,২৮৪টি।দেশে শহরের থেকে পল্লী এলাকায় বাসগৃহ রয়েছে ১৯,৬৩২,৩৮৩ টি বেশি।যার মধ্যে রাজধনী ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮,১১৯,২০৫ টি এবং সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম (১,৮৮৫,০১৭ টি)।

দেশের স্বাক্ষতার হার

দেশে গত ১১ বছরের স্বাক্ষতার হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৪.৬৬ শতাংশ।যার মধ্যে পল্লী এলাকায় ৭১.৫৬% এবং শহর এলাকায় ৮১.২৮%।

দেশের পুরুষের ৭৬.৫৬%, অপরদিকে মহিলাদের ৭২.৮২% এবং হিজড়াদের সাক্ষরতার হার ৫৩.৬৫%।

ঢাকা বিভাগে স্বাক্ষরতার হার ৭৮.৯ শতাংশ।এবং ঢাকা বিভাগে স্বাক্ষতার হার সবচেয়ে বেশি।

ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাক্ষরতার হার ৬৭.৯ শতাংশ।এবং ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাক্ষতার হার সবচেয়ে কম।

দেশের মোট ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৯১.০৪% মুসলমান, ৭.৯৫% হিন্দু, ০.৬১% বৌদ্ধ, ০.৩০% খ্রিষ্টান এবং ০.১২% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

দেশের মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যার ১.০০%।সবচেয়ে বেশি চট্রগ্রাম বিভাগে।চট্রগ্রাম বিভাগের মোট জনগোষ্ঠীর ২.৯৯% ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।আবার সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে যা বরিশাল বিভাগের মোট জন গোষ্ঠীর ০.০৫%।

দেশের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যাবহার কারীর সংখ্যা

দেশে মোবাইল ফোন ব্যাবহারে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ এবং সর্বনিম্ন অবস্থান সিলেট বিভাগে।

দেশে ইন্টারনেট ব্যাবহারে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ এবং এখানেও রংপুর বিভাগ সবচেয়ে কম।

দেশের মোট বিবাহিত, তালাক, বিধবা বা বিপত্নীক এবং সাংসারিক মানুষের সংখ্যা

এই জনগণনায় বিবাহিত জনসংখ্যা আর তালাকের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ।রাজশাহী বিভাগে বিবাহিত ৬৮.৯৭ শতাংশ অন্য দিকে তালাকের হার ০.৬১ শতাংশ।

আবার অন্যদিকে দেশে বিয়ে না হওয়া মানুষের হার সবচেয়ে বেশি সিলেটে।সিলেট বিভাগের অবিবাহিতদের সংখ্যা ৩৭.৭৭ শতাংশ।

আবার রংপুর বিভাগ এগিয়ে আছে বিধবা বা বিপত্নীক মানুষের দিক দিয়ে।রংপুর বিভাগে বিধবা বা বিপত্নীক মানুষের হার ৫.৮৪ শতাংশ।

দেশে সবচেয়ে বেশি সাংসারিক মানুষের হার রংপুর বিভাগে।অন্যদিকে বিচ্ছেদের হারও সব বিভাগ থেকে কম।বরিশাল বিভাগে তালাকের হার ২.৯৯ শতাংশ অন্যদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের হার ০.৩১ শতাংশ।

যৌথ পরিবার গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে ঢাকা বিভাগে।অন্যদিকে পরিবারের বন্ধন সবচেয়ে বেশি দৃঢ় সিলেট বিভাগে।

দেশের প্রতিবন্ধি জনসংখ্যার তথ্য:

দেশের মোট প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা ২৩লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন।যা মোট জনসংখ্যার ১.৪৩% কমপক্ষে এক ধরণের প্রতিবন্ধি।মোট পুরুষের ১.৬৩% প্রতিবন্ধি এবং মোট মহিলার ১.২৩% কমপক্ষে এক ধরণের প্রতিবন্ধি দেশে প্রতিবন্ধি জনসংখ্যার হার সবচেয়ে বেশি খুলনা বিভাগে।খুলনা বিভাগে শতকরা প্রতিবন্ধীর হার ১.৭৭ শতাংশ।খুলনা বিভাগে পুরুষ প্রতিবন্ধি ২.০৩% ও মহিলা প্রতিবন্ধি ১.৫২%। দেশে প্রতিবন্ধি জনসংখ্যার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।ঢাকা বিভাগে শতকরা প্রতিবন্ধীর হার ১.০৮ শতাংশ।পুরুষ প্রতিবন্ধি ১.১৯% ও মহিলা প্রতিবন্ধি ০.৯৫%।

ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *